০৬:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নির্বাচিত হলে সরকারি হাসপাতাল ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগ নেবো: এস এম  জাহাঙ্গীর উত্তরা ১৪ নং সেক্টর এলাকায় ধানের শীষের সমর্থনে শিমুল আহমেদের নেতৃত্বে গণসংযোগ ভোলা-১: দোয়ার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ওবায়েদ বিন মোস্তফা জামাতের মোড়লগিরীতে থাকছে না বৃহত্তর ঐক্য ঢাকা-১৮ আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদিবের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা ঢাকা-১১ তে ফজলে বারী মাসউদের মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা  শায়খ ফয়জুল করীম এর যত সম্পদ বিমানের জিএম মনিরুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার সহ নানা গুরুতর অভিযোগ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদের শোক সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সেক্টর-১২ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির শোক ও কর্মসূচি ঘোষণা

উত্তরায় সিটি কর্পোরেশনের একতরফা সিদ্ধান্তে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে

  • আপডেট সময় : ০৩:৫৭:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১২ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস অব টাইম অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উত্তরায় সিটি কর্পোরেশনের একতরফা সিদ্ধান্তে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের হঠাৎ সিদ্ধান্তকে ঘিরে উত্তরা এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের আলোচনায় না গিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার শাখার হিন্দু সম্প্রদায়কে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য ১১ নং সেক্টরের খেলার মাঠ বরাদ্দ দেওয়ার চিঠি জারি করলে এ নিয়ে মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার  সন্ধ্যায় ১১ নং সেক্টর কল্যাণ সমিতি অফিসে এ বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন, মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ, কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি, উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জসহ এলাকাবাসীর বিশিষ্টজনেরা।

হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ সভায় বলেন, “আমরা গত ২০ জুলাই ২০২৫ তারিখে মুগ্ধ মঞ্চের সামনে খালি জায়গা বরাদ্দের আবেদন করেছিলাম। কিন্তু আমাদের প্রস্তাবিত জায়গা না দিয়ে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ ১১ নং সেক্টরের মাঠ বরাদ্দ করে। অথচ আমরা একাধিকবার অনুরোধ করেছিলাম এই মাঠে আমাদের উৎসব না দিতে, কারণ এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষুণ্ণ হওয়ার শঙ্কা আছে।

অন্যদিকে উত্তরা ১১ নং সেক্টরের বাসিন্দারা বলেন, “এই মাঠ আমাদের শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও এলাকাবাসীর হাঁটার একমাত্র জায়গা। এখানে প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষ স্বাস্থ্যচর্চা করেন। মাঠের মূল ফটকে ‘কালিমা’ খচিত ক্যালিগ্রাফি রয়েছে, যা আমাদের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে জড়িত। তাই কোনোভাবেই দীর্ঘ ২৫ দিন ধরে এই মাঠ পূজার জন্য বরাদ্দ দেওয়া যাবে না।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সিটি কর্পোরেশনের একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেন, যদি এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা হয়, তবে এখানে ধর্মীয় দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশঙ্কা রয়েছে, যা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি  হুমকির মুখে পড়বে।

এ সময় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জোর দাবি জানানো হয়—আগামীকালকের মধ্যে সিটি কর্পোরেশন এই চিঠি প্রত্যাহার করে হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবিকৃত মুগ্ধ মঞ্চ বরাদ্দ দিক। তবেই শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠুভাবে উদযাপন সম্ভব হবে, এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা পাবে।

এ বিষয়ে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি উত্তরা  পশ্চিম থানার নেতৃবৃন্দ বলেন,….  আমরা গত ২০ জুলাই মাসে সিটি কর্পোরেশন ডিএনসিসির কাছে মুগ্ধ মঞ্চ চেয়েছিলাম  ডিএনসিসি আমাদের অনুমতি দেয় এবং আমরা মুগ্ধ মঞ্চে স্ট্যাজ তৈরি করার জন্য বাশ ফেলা হলে মুগ্ধ মঞ্চের কমিটি আমাদের বাধা দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়।  আজকের মধ্যে আমাদের কোন যায়গায় স্থান না দিলে আমরা পূজা এবার করতে পারবোনা কারণ আর সময় নেই।

এ বিষয়ে ডিএমপি উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুর রহিম মোল্লা গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা সকল আইনি সহযোগিতা করত্ব প্রস্তুত রয়েছি।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা শওকত ওসমান কে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

এ বিষয়ে ডিয়াবাড়ী আর্মি ক্যাম্পের অধিনায়ক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাসিন বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কোনো মতামত নেই।

এলাকার বিশিষ্ট গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলেন,

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ হিসেবে পরিচিত। মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায় বহু বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছে। কিন্তু স্থান নির্বাচনে প্রশাসনের অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত প্রায়ই অযাচিত সংকট সৃষ্টি করে। উত্তরা ১১ নং সেক্টরের মাঠ সংক্রান্ত এ সিদ্ধান্তও তার ব্যতিক্রম নয়।

যেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করা যেত, সেখানে সিটি কর্পোরেশনের একতরফা পদক্ষেপ শুধু উত্তেজনা নয়, অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপনের অধিকার যেমন হিন্দু সম্প্রদায়ের রয়েছে, তেমনি মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতি ও সামাজিক পরিসরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনও অপরিহার্য।

অতএব, প্রশাসনের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে বিকল্প স্থান বরাদ্দ করা। অন্যথায় একটি উৎসবকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

উত্তরায় সিটি কর্পোরেশনের একতরফা সিদ্ধান্তে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে

আপডেট সময় : ০৩:৫৭:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

উত্তরায় সিটি কর্পোরেশনের একতরফা সিদ্ধান্তে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের হঠাৎ সিদ্ধান্তকে ঘিরে উত্তরা এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের আলোচনায় না গিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার শাখার হিন্দু সম্প্রদায়কে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য ১১ নং সেক্টরের খেলার মাঠ বরাদ্দ দেওয়ার চিঠি জারি করলে এ নিয়ে মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার  সন্ধ্যায় ১১ নং সেক্টর কল্যাণ সমিতি অফিসে এ বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন, মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ, কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি, উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জসহ এলাকাবাসীর বিশিষ্টজনেরা।

হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ সভায় বলেন, “আমরা গত ২০ জুলাই ২০২৫ তারিখে মুগ্ধ মঞ্চের সামনে খালি জায়গা বরাদ্দের আবেদন করেছিলাম। কিন্তু আমাদের প্রস্তাবিত জায়গা না দিয়ে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ ১১ নং সেক্টরের মাঠ বরাদ্দ করে। অথচ আমরা একাধিকবার অনুরোধ করেছিলাম এই মাঠে আমাদের উৎসব না দিতে, কারণ এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষুণ্ণ হওয়ার শঙ্কা আছে।

অন্যদিকে উত্তরা ১১ নং সেক্টরের বাসিন্দারা বলেন, “এই মাঠ আমাদের শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও এলাকাবাসীর হাঁটার একমাত্র জায়গা। এখানে প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষ স্বাস্থ্যচর্চা করেন। মাঠের মূল ফটকে ‘কালিমা’ খচিত ক্যালিগ্রাফি রয়েছে, যা আমাদের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে জড়িত। তাই কোনোভাবেই দীর্ঘ ২৫ দিন ধরে এই মাঠ পূজার জন্য বরাদ্দ দেওয়া যাবে না।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সিটি কর্পোরেশনের একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেন, যদি এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা হয়, তবে এখানে ধর্মীয় দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশঙ্কা রয়েছে, যা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি  হুমকির মুখে পড়বে।

এ সময় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জোর দাবি জানানো হয়—আগামীকালকের মধ্যে সিটি কর্পোরেশন এই চিঠি প্রত্যাহার করে হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবিকৃত মুগ্ধ মঞ্চ বরাদ্দ দিক। তবেই শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠুভাবে উদযাপন সম্ভব হবে, এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা পাবে।

এ বিষয়ে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি উত্তরা  পশ্চিম থানার নেতৃবৃন্দ বলেন,….  আমরা গত ২০ জুলাই মাসে সিটি কর্পোরেশন ডিএনসিসির কাছে মুগ্ধ মঞ্চ চেয়েছিলাম  ডিএনসিসি আমাদের অনুমতি দেয় এবং আমরা মুগ্ধ মঞ্চে স্ট্যাজ তৈরি করার জন্য বাশ ফেলা হলে মুগ্ধ মঞ্চের কমিটি আমাদের বাধা দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়।  আজকের মধ্যে আমাদের কোন যায়গায় স্থান না দিলে আমরা পূজা এবার করতে পারবোনা কারণ আর সময় নেই।

এ বিষয়ে ডিএমপি উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুর রহিম মোল্লা গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা সকল আইনি সহযোগিতা করত্ব প্রস্তুত রয়েছি।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা শওকত ওসমান কে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

এ বিষয়ে ডিয়াবাড়ী আর্মি ক্যাম্পের অধিনায়ক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাসিন বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কোনো মতামত নেই।

এলাকার বিশিষ্ট গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলেন,

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ হিসেবে পরিচিত। মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায় বহু বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছে। কিন্তু স্থান নির্বাচনে প্রশাসনের অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত প্রায়ই অযাচিত সংকট সৃষ্টি করে। উত্তরা ১১ নং সেক্টরের মাঠ সংক্রান্ত এ সিদ্ধান্তও তার ব্যতিক্রম নয়।

যেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করা যেত, সেখানে সিটি কর্পোরেশনের একতরফা পদক্ষেপ শুধু উত্তেজনা নয়, অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপনের অধিকার যেমন হিন্দু সম্প্রদায়ের রয়েছে, তেমনি মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতি ও সামাজিক পরিসরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনও অপরিহার্য।

অতএব, প্রশাসনের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে বিকল্প স্থান বরাদ্দ করা। অন্যথায় একটি উৎসবকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।