০২:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সন্দ্বীপের দায়িত্ব নিতে তরুণদের প্রতি অধ্যাপক আমজাদ হোসেনের উদাত্ত আহ্বান শেরপুর-৩ আসনের জামাতের প্রার্থী বাদলের মৃত্যু নির্বাচিত হলে সরকারি হাসপাতাল ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগ নেবো: এস এম  জাহাঙ্গীর উত্তরা ১৪ নং সেক্টর এলাকায় ধানের শীষের সমর্থনে শিমুল আহমেদের নেতৃত্বে গণসংযোগ ভোলা-১: দোয়ার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ওবায়েদ বিন মোস্তফা জামাতের মোড়লগিরীতে থাকছে না বৃহত্তর ঐক্য ঢাকা-১৮ আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদিবের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা ঢাকা-১১ তে ফজলে বারী মাসউদের মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা  শায়খ ফয়জুল করীম এর যত সম্পদ বিমানের জিএম মনিরুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার সহ নানা গুরুতর অভিযোগ

জামাতের মোড়লগিরীতে থাকছে না বৃহত্তর ঐক্য

  • আপডেট সময় : ০৮:১৬:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৯৯ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস অব টাইম অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামপন্থি দলগুলোর ভোট এক বাক্সে আনার লক্ষ্যে- ‘ওয়ান বক্স’ নীতিতে নির্বাচনি ঐক্যের উদ্যোগ নেয় ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি ইসলামী দল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল— ইসলামপন্থি ভোট বিভক্ত না করে একটি প্ল্যাটফর্মে কেন্দ্রীভূত করা, যাতে নির্বাচনে ইসলামী দলগুলো একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে।
শুরুর দিকে এই আলোচনায় কয়েকটি দল থাকলেও পরবর্তীতে এতে যুক্ত হয় জামায়াতে ইসলামীসহ আরও কয়েকটি দল। সর্বশেষ কয়েক দিন আগে এই ঐক্য প্রক্রিয়ায় যোগ দেয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। এতে করে ১১ দলের একটি বৃহৎ নির্বাচনি ঐক্যের তৈরি হয়।
তবে ‘ওয়ান বক্স’ নীতিতে এই ঐক্য সংগঠিত হলেও এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আসন বণ্টন নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দলগুলো। কোন দল কতটি আসনে প্রার্থী দেবে, এই দর কষাকষিতেই আটকে আছে পুরো সমঝোতা প্রক্রিয়া। যদিও এই দরকষাকষির মধ্যে আজ সংবাদ সম্মেলন করে জোটের চূড়ান্ত ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে এই সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসুদ।
তিনি বলেন, গত রাতে আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। সেই সিদ্ধান্ত আজ অথবা আগামীকাল আমাদের আমির পীর সাহেব চরমোনাই একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন।
তিনি আরও বলেন, আগামীকাল জামায়াতসহ অন্যান্যরা সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে কি না, সে বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে আমরা আমাদের গৃহীত সিদ্ধান্ত একটি পৃথক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমেই জানাব।
সূত্র বলছে, শুরু থেকেই জামায়াতে ইসলামী নিজেদের জন্য প্রায় ১৯০টি আসন ধরে রাখার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। বাকি আসনগুলো শরিক দলগুলোর মধ্যে বণ্টনের প্রস্তাব দেয় দলটি। এই প্রস্তাবের মাধ্যমেই সমঝোতার টেবিলে শুরু হয় অস্বস্তি। এরমধ্যে জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি ইসলামী আন্দোলনকেও প্রথম ধাপে মাত্র ৩৫টি আসনের প্রস্তাব দেওয়া হলে দলটির ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়। এ অবস্থায় দুই দলের মধ্যকার আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটাকে জামায়াতের ‘মোড়লগিরি’ হিসেবে দেখেছেন। একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে জোটের অন্য ছোট দলগুলোর ক্ষেত্রেও। প্রত্যাশিত আসন না পাওয়ায় তাদের মধ্যেও এক ধরনের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘ওয়ান বক্স’ নীতি শুরুতে যতটা আন্তরিক ছিল, এখন তা ততটাই জটিল হয়ে উঠছে। তাদের মতে,  এই ঐক্য এখন আর শুধু ভোট এক বাক্সে আনার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই, এখানে নিয়ন্ত্রণ ও মোড়লগিরির দ্বন্দ্বও দেখা দিয়েছে।
তাদের ভাষ্য, জামায়াতের এককভাবে ১৯০ আসন দাবি করার বিষয়টি অন্য দলগুলোর মধ্যে একধরনের সংকট তৈরি করছে। এতে করে ইসলামী আন্দোলনসহ বাকি দলগুলো নিজেদের সহযোগী নয়, অনুগত হিসেবে দেখার প্রবণতা লক্ষ্য করছে। ফলে আসন বণ্টনে ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সম্মান নিশ্চিত না হওয়ায় ‘ওয়ান বক্স’ নীতি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জামাতের মোড়লগিরীতে থাকছে না বৃহত্তর ঐক্য

আপডেট সময় : ০৮:১৬:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামপন্থি দলগুলোর ভোট এক বাক্সে আনার লক্ষ্যে- ‘ওয়ান বক্স’ নীতিতে নির্বাচনি ঐক্যের উদ্যোগ নেয় ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি ইসলামী দল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল— ইসলামপন্থি ভোট বিভক্ত না করে একটি প্ল্যাটফর্মে কেন্দ্রীভূত করা, যাতে নির্বাচনে ইসলামী দলগুলো একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে।
শুরুর দিকে এই আলোচনায় কয়েকটি দল থাকলেও পরবর্তীতে এতে যুক্ত হয় জামায়াতে ইসলামীসহ আরও কয়েকটি দল। সর্বশেষ কয়েক দিন আগে এই ঐক্য প্রক্রিয়ায় যোগ দেয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। এতে করে ১১ দলের একটি বৃহৎ নির্বাচনি ঐক্যের তৈরি হয়।
তবে ‘ওয়ান বক্স’ নীতিতে এই ঐক্য সংগঠিত হলেও এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আসন বণ্টন নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দলগুলো। কোন দল কতটি আসনে প্রার্থী দেবে, এই দর কষাকষিতেই আটকে আছে পুরো সমঝোতা প্রক্রিয়া। যদিও এই দরকষাকষির মধ্যে আজ সংবাদ সম্মেলন করে জোটের চূড়ান্ত ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে এই সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসুদ।
তিনি বলেন, গত রাতে আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। সেই সিদ্ধান্ত আজ অথবা আগামীকাল আমাদের আমির পীর সাহেব চরমোনাই একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন।
তিনি আরও বলেন, আগামীকাল জামায়াতসহ অন্যান্যরা সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে কি না, সে বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে আমরা আমাদের গৃহীত সিদ্ধান্ত একটি পৃথক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমেই জানাব।
সূত্র বলছে, শুরু থেকেই জামায়াতে ইসলামী নিজেদের জন্য প্রায় ১৯০টি আসন ধরে রাখার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। বাকি আসনগুলো শরিক দলগুলোর মধ্যে বণ্টনের প্রস্তাব দেয় দলটি। এই প্রস্তাবের মাধ্যমেই সমঝোতার টেবিলে শুরু হয় অস্বস্তি। এরমধ্যে জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি ইসলামী আন্দোলনকেও প্রথম ধাপে মাত্র ৩৫টি আসনের প্রস্তাব দেওয়া হলে দলটির ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়। এ অবস্থায় দুই দলের মধ্যকার আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটাকে জামায়াতের ‘মোড়লগিরি’ হিসেবে দেখেছেন। একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে জোটের অন্য ছোট দলগুলোর ক্ষেত্রেও। প্রত্যাশিত আসন না পাওয়ায় তাদের মধ্যেও এক ধরনের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘ওয়ান বক্স’ নীতি শুরুতে যতটা আন্তরিক ছিল, এখন তা ততটাই জটিল হয়ে উঠছে। তাদের মতে,  এই ঐক্য এখন আর শুধু ভোট এক বাক্সে আনার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই, এখানে নিয়ন্ত্রণ ও মোড়লগিরির দ্বন্দ্বও দেখা দিয়েছে।
তাদের ভাষ্য, জামায়াতের এককভাবে ১৯০ আসন দাবি করার বিষয়টি অন্য দলগুলোর মধ্যে একধরনের সংকট তৈরি করছে। এতে করে ইসলামী আন্দোলনসহ বাকি দলগুলো নিজেদের সহযোগী নয়, অনুগত হিসেবে দেখার প্রবণতা লক্ষ্য করছে। ফলে আসন বণ্টনে ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সম্মান নিশ্চিত না হওয়ায় ‘ওয়ান বক্স’ নীতি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে যাচ্ছে।